১১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিবালয়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা হয়েছে।

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট : ০৬:১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মার্চ ২০২৪
  • 88

আকাশ বিডি নিউজ
শিবালয়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা হয়েছে। ইলিশ হলো মাছের রাজা, জাটকা ধরলে হবে সাজা’-এ প্রতিপাদ্যে ১১ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের কর্মসূচি পালন করা হ‌বে ব‌লে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, তারিফ উল হাসান।
১১ মার্চ সকালে আরিচা যমুনা নদীর পাড়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ উদ্ধোদন ও আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারিফ উল হাসান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইলিশ বেড়ে উঠার পথে কোনভাবেই যাতে বাধা সৃষ্টি না হয় সেজন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো। জাটকা আহরণ বন্ধকালে ইলিশ আহরণে জড়িতদের যাতে সমস্যা নয়, সেজন্য তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্র্যান্ডেড এবং পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম সেরা মাছ ইলিশ উল্লেখ বলেন, ইলিশের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। আশা করছি ভবিষ্যতে এটা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে। ইলিশ উৎপাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে আমরা প্রথম স্থানে রয়েছি।
জাটকা রক্ষায় ও মা ইলিশ আহরণ বন্ধে জলে, স্থলে বিভিন্নভাবে মনিটর করা হচ্ছে। ইলিশের অভয়াশ্রমে জাটকা নিধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যারা কারেন্ট জাল, বেহুন্দী জালসহ অন্যান্য ক্ষতিকর জাল তৈরি করে জাটকা নিধন করে তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হচ্ছে।
তি‌নি ব‌লেন, জাটকাসহ অন্যান্য মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলে এ বছর ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে আমরা খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছি।
জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ উদ্ধোধন ও আলোচনা সভায় শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রেজাউর রহমান জানু বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাটকা আহরণে ৬৫০টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে ভিজিএফ বিতরণ করা হয়েছে। কারণ আমাদের মৎস্যজীবীদের পরিবারের কথাও মাথায় রাখতে হয়। ভিজিএফ সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলেদের কে চাহিদানুযায়ী নানা উপকরণ দেওয়া হয়েছে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ যাতে জাটকা আহরণ করতে না পারে, ইলিশের অভয়াশ্রমে ক্ষতিকর ভূমিকা রাখতে না পারে সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। এমনকি মাছের বাজারে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। শিবালয় উপজেলার যে বিস্তৃত এলাকায় ইলিশ উৎপাদন হয় আমরা চেষ্টা করছি যেন জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে কেউ জাটকা আহরণ করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।
ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসন নয় সবাইকে সম্পৃক্ত থাকতে হবে উল্লেখ করে বলেন, নৌপুলিশ, পুলিশ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে। এমন কি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ও আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। আমরা জাটকা ধরবো না। বড় ইলিশ তৈরির সুযোগ করে দেবো। আমরা বড় ইলিশ খাওয়ার সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করবো না। এটা হোক জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে আমাদের অঙ্গীকার।
শিবালয় উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, তারিফ উল হাসান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবালয় সার্কল মারুফা নাজনিন, শিবালয় উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান, ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজ হোসেন লালন ফকির, শিবালয় থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রউফ সরকার, শিবালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, উথুলী ও তেওতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্বাস আলী, মোঃ মোশাররফ হোসেন প্রমূখ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান, সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দীন। জাকটা সংরক্ষণ ও আলোচনা সভা শেষে রেলী বের করা হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

শিবালয়ে মোবাইল কোর্টে ১৮৬০০০ টাকা জরিমানা করেন – এস এম ফয়েজ উদ্দিন

শিবালয়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা হয়েছে।

আপডেট : ০৬:১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মার্চ ২০২৪

আকাশ বিডি নিউজ
শিবালয়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা হয়েছে। ইলিশ হলো মাছের রাজা, জাটকা ধরলে হবে সাজা’-এ প্রতিপাদ্যে ১১ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের কর্মসূচি পালন করা হ‌বে ব‌লে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, তারিফ উল হাসান।
১১ মার্চ সকালে আরিচা যমুনা নদীর পাড়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ উদ্ধোদন ও আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারিফ উল হাসান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইলিশ বেড়ে উঠার পথে কোনভাবেই যাতে বাধা সৃষ্টি না হয় সেজন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো। জাটকা আহরণ বন্ধকালে ইলিশ আহরণে জড়িতদের যাতে সমস্যা নয়, সেজন্য তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্র্যান্ডেড এবং পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম সেরা মাছ ইলিশ উল্লেখ বলেন, ইলিশের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। আশা করছি ভবিষ্যতে এটা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে। ইলিশ উৎপাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে আমরা প্রথম স্থানে রয়েছি।
জাটকা রক্ষায় ও মা ইলিশ আহরণ বন্ধে জলে, স্থলে বিভিন্নভাবে মনিটর করা হচ্ছে। ইলিশের অভয়াশ্রমে জাটকা নিধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যারা কারেন্ট জাল, বেহুন্দী জালসহ অন্যান্য ক্ষতিকর জাল তৈরি করে জাটকা নিধন করে তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হচ্ছে।
তি‌নি ব‌লেন, জাটকাসহ অন্যান্য মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলে এ বছর ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে আমরা খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছি।
জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ উদ্ধোধন ও আলোচনা সভায় শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রেজাউর রহমান জানু বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাটকা আহরণে ৬৫০টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে ভিজিএফ বিতরণ করা হয়েছে। কারণ আমাদের মৎস্যজীবীদের পরিবারের কথাও মাথায় রাখতে হয়। ভিজিএফ সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলেদের কে চাহিদানুযায়ী নানা উপকরণ দেওয়া হয়েছে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ যাতে জাটকা আহরণ করতে না পারে, ইলিশের অভয়াশ্রমে ক্ষতিকর ভূমিকা রাখতে না পারে সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। এমনকি মাছের বাজারে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। শিবালয় উপজেলার যে বিস্তৃত এলাকায় ইলিশ উৎপাদন হয় আমরা চেষ্টা করছি যেন জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে কেউ জাটকা আহরণ করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।
ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসন নয় সবাইকে সম্পৃক্ত থাকতে হবে উল্লেখ করে বলেন, নৌপুলিশ, পুলিশ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে। এমন কি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ও আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। আমরা জাটকা ধরবো না। বড় ইলিশ তৈরির সুযোগ করে দেবো। আমরা বড় ইলিশ খাওয়ার সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করবো না। এটা হোক জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে আমাদের অঙ্গীকার।
শিবালয় উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, তারিফ উল হাসান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবালয় সার্কল মারুফা নাজনিন, শিবালয় উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান, ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজ হোসেন লালন ফকির, শিবালয় থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রউফ সরকার, শিবালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, উথুলী ও তেওতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্বাস আলী, মোঃ মোশাররফ হোসেন প্রমূখ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান, সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দীন। জাকটা সংরক্ষণ ও আলোচনা সভা শেষে রেলী বের করা হয়।