১০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ বায়ু-দূষণ এর কবলে শিবালয়ের উথলী সংযোগ মোড়

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট : ১১:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪
  • 738

আকাশ বিডি নিউজ
এ বি এম সিয়াম আহমেদ
শিক্ষার্থী, স্টামফোর্ড ইইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ
বায়ুদূষণ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বায়ুদূষণ শুধুমাত্র ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে দেখা গেলেও বর্তমানে তা গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের উথলি সংযোগ মোড়ে বায়ুদূষণ এর কারণে এলাকার জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে যায়, রাস্তায় পড়ে থাকা বালুকণা বায়ুদূষণ এর অন্যতম প্রধান উৎস।বায়ু দূষণের কারণ মূলত অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫ ও ১০) । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ট্রাকে বালু বহনের ক্ষেত্রে কাপড় বা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে বহন করার কথা। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। খোলা ট্রাকে বালুমাটি বহন করায় চোখে-মুখে বালু-ধূলিকণা ঢুকে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাস্তায় পড়ে থাকা ধুলা চলন্ত যানবাহনের গতিতে মিশছে এবং ধূলা দূষণের সৃষ্টি করছে; ঘর থেকে বের হলেই পথচারীদের জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নদী এলাকা থেকে বালু তুলে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এই বালু-মাটি বিভিন্ন
বসতবাড়ির ভিটা উঁচুকরণ, গর্ত ভরাটসহ ইটভাটার কাজে নেওয়া হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে হাইকোর্ট বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যে ৯ দফা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, পানি ছিটানো এবং খোড়াখুড়ির সময় দরপত্রের শর্তগুলো ছিল। কিন্তু সেগুলো মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন আরো জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০ ড্রামট্রাক এই রাস্তা দিয়ে রাতের আঁধারে চলাচল করে। এ সকল ট্রাক কোন ধরনের নিয়ম না মেনেই বালু পরিবহন করছে। বালু ব্যবসায়ী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পান না।
এছাড়াও বায়ু দূষণের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিও রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত বায়ু দূষণ ভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালের তুলনায় বায়ু দূষণ ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে মানুষের গড় আয়ু ২ বছর ৮ মাস কমেছে। জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ আব্দুস শাকুর খান বলেন, বায়ু দূষণের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের ফুসফুস।দীর্ঘদিন বায়ু দূষণের মধ্যে থাকলে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখছি, যাদের অ্যাজমা নেই তাদের তা শুরু হয়েছে। আবার, অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বেড়েছে। বায়ু দূষণের কারণে যক্ষারোগীর সংখ্যা ও বাড়ছে।
সুতরাং, জনগণের জনস্থ্যের কথা চিন্তা করে বায়ু দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ না নেয়া হলে ভবিষ্যতে এলাকার জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

ঢাকা আরিচা মহাসড়কের টেপড়া বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ছাউনি ময়লার ডাস্টবিনে

ভয়াবহ বায়ু-দূষণ এর কবলে শিবালয়ের উথলী সংযোগ মোড়

আপডেট : ১১:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

আকাশ বিডি নিউজ
এ বি এম সিয়াম আহমেদ
শিক্ষার্থী, স্টামফোর্ড ইইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ
বায়ুদূষণ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বায়ুদূষণ শুধুমাত্র ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে দেখা গেলেও বর্তমানে তা গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের উথলি সংযোগ মোড়ে বায়ুদূষণ এর কারণে এলাকার জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে যায়, রাস্তায় পড়ে থাকা বালুকণা বায়ুদূষণ এর অন্যতম প্রধান উৎস।বায়ু দূষণের কারণ মূলত অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫ ও ১০) । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ট্রাকে বালু বহনের ক্ষেত্রে কাপড় বা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে বহন করার কথা। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। খোলা ট্রাকে বালুমাটি বহন করায় চোখে-মুখে বালু-ধূলিকণা ঢুকে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাস্তায় পড়ে থাকা ধুলা চলন্ত যানবাহনের গতিতে মিশছে এবং ধূলা দূষণের সৃষ্টি করছে; ঘর থেকে বের হলেই পথচারীদের জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নদী এলাকা থেকে বালু তুলে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এই বালু-মাটি বিভিন্ন
বসতবাড়ির ভিটা উঁচুকরণ, গর্ত ভরাটসহ ইটভাটার কাজে নেওয়া হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে হাইকোর্ট বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যে ৯ দফা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, পানি ছিটানো এবং খোড়াখুড়ির সময় দরপত্রের শর্তগুলো ছিল। কিন্তু সেগুলো মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন আরো জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০ ড্রামট্রাক এই রাস্তা দিয়ে রাতের আঁধারে চলাচল করে। এ সকল ট্রাক কোন ধরনের নিয়ম না মেনেই বালু পরিবহন করছে। বালু ব্যবসায়ী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পান না।
এছাড়াও বায়ু দূষণের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিও রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত বায়ু দূষণ ভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালের তুলনায় বায়ু দূষণ ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে মানুষের গড় আয়ু ২ বছর ৮ মাস কমেছে। জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ আব্দুস শাকুর খান বলেন, বায়ু দূষণের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের ফুসফুস।দীর্ঘদিন বায়ু দূষণের মধ্যে থাকলে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখছি, যাদের অ্যাজমা নেই তাদের তা শুরু হয়েছে। আবার, অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বেড়েছে। বায়ু দূষণের কারণে যক্ষারোগীর সংখ্যা ও বাড়ছে।
সুতরাং, জনগণের জনস্থ্যের কথা চিন্তা করে বায়ু দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ না নেয়া হলে ভবিষ্যতে এলাকার জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।