
আকাশ চৌধুরী
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে গেছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৪৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিট) আহত সাতজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘাট সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুনে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তেই তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত গভীর হওয়ায় উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত ডুবে যাওয়া বাস কিংবা নিখোঁজ যাত্রীদের কাউকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে মোট ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব বলেন, “চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত সাতজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা এখনও নিখোঁজ।”
এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধারকাজে নেমেছে। তবে উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), গোয়ালন্দ ঘাট থানা কিংবা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। সময় যত গড়াচ্ছে, স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে।









