০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিবালয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবক গ্রেফতার

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট : ০৭:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
  • 64

আকাশ চৌধুরী
শিবালয় উপজেলায় দশম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো: হৃদয় হোসেন (২৫) নামের এক বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে শিবালয় থানা পুলিশ।

আজ(২৫ মার্চ) দুপুরে শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালজানা গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে হৃদয়কে গ্রেফতার করে শিবালয় পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া যুবক ওই এলাকার আজিজ খাঁ’র ছেলে।

আদালতে দাখিলকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়া আসার সময় আসামী হৃদয় রাস্তাঘাটে ভিকটিমকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো এতে কোন সাড়া না পাওয়ায় ১৩ই মার্চ রাতে ওই স্কুলছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে টয়লেট এ যাওয়ার সময় আগে থেকে উৎ পেতে থাকা আসামী হৃদয় ওই স্কুলছাত্রীর মুখমন্ডলে চেতনানাশক মেডিসিন মিশ্রিত পানি ছিটাইয়া তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে গেলে ১৯ মার্চ তাকে নিয়ে হৃদয় বাড়ি আসে। পরে হৃদয়ের ভাই ওই স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেন।

ভিকটিমের বড় ভাই মামলার বাদী বলেন, হৃদয় আমার বোনকে ফেরত দেওয়ার পর প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। পরে সেখান থেকে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কয়েকদিন ভর্তি থাকার পর বোনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন। বিষয়টি শিবালয় থানা পুলিশে জানানো হলে তারা কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে কোর্টে মামলা করা হয় বলে জানান তিনি।

ভিকটিমের মা জানান, ৫ মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। ওদের বাবা মারা গেছে বহু আগে। অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। ওই মেয়েটা সবার ছোট। আমার ছেলে সরকারী দেবেন্দ্র কলেজে বি.বি.এ পড়ে। এর পাশাপাশি একটি এনজিও’তে চাকুরী করে। ওই টাকায় সংসার চলে। কিন্তু এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে গেলো। ঢাকা নিয়ে মেয়েকে চিকিৎসা করার মতো কোন টাকাও নেই। তার মেয়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তির সর্ব্বোচ শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের বিষয়ে ২৩ই মার্চ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মিস পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে শিবালয় থানা পুলিশকে অভিযোগটি এফ.আই.আর করার নির্দেশ দিলে পুলিশ মামলার প্রধান আসামী হৃদয়কে গ্রেফতার করে। এতে করে ভিকটিম ন্যায় বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয় এবং সেই সঙ্গে ভিকটিমের পক্ষে বিনা খরচে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ওই আইনজীবী।

শিবালয় থানা অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন বলেন, আদালতের নিদের্শে এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ভিকটিমকে ধর্ষণের বিষয়টি শিকার করেছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

শিবালয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা নগদ অর্থ সহ ঈদের কেনাকাটা ছিনতাই

শিবালয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবক গ্রেফতার

আপডেট : ০৭:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

আকাশ চৌধুরী
শিবালয় উপজেলায় দশম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো: হৃদয় হোসেন (২৫) নামের এক বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে শিবালয় থানা পুলিশ।

আজ(২৫ মার্চ) দুপুরে শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালজানা গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে হৃদয়কে গ্রেফতার করে শিবালয় পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া যুবক ওই এলাকার আজিজ খাঁ’র ছেলে।

আদালতে দাখিলকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়া আসার সময় আসামী হৃদয় রাস্তাঘাটে ভিকটিমকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো এতে কোন সাড়া না পাওয়ায় ১৩ই মার্চ রাতে ওই স্কুলছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে টয়লেট এ যাওয়ার সময় আগে থেকে উৎ পেতে থাকা আসামী হৃদয় ওই স্কুলছাত্রীর মুখমন্ডলে চেতনানাশক মেডিসিন মিশ্রিত পানি ছিটাইয়া তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে গেলে ১৯ মার্চ তাকে নিয়ে হৃদয় বাড়ি আসে। পরে হৃদয়ের ভাই ওই স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেন।

ভিকটিমের বড় ভাই মামলার বাদী বলেন, হৃদয় আমার বোনকে ফেরত দেওয়ার পর প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। পরে সেখান থেকে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কয়েকদিন ভর্তি থাকার পর বোনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন। বিষয়টি শিবালয় থানা পুলিশে জানানো হলে তারা কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে কোর্টে মামলা করা হয় বলে জানান তিনি।

ভিকটিমের মা জানান, ৫ মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। ওদের বাবা মারা গেছে বহু আগে। অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। ওই মেয়েটা সবার ছোট। আমার ছেলে সরকারী দেবেন্দ্র কলেজে বি.বি.এ পড়ে। এর পাশাপাশি একটি এনজিও’তে চাকুরী করে। ওই টাকায় সংসার চলে। কিন্তু এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে গেলো। ঢাকা নিয়ে মেয়েকে চিকিৎসা করার মতো কোন টাকাও নেই। তার মেয়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তির সর্ব্বোচ শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের বিষয়ে ২৩ই মার্চ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মিস পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে শিবালয় থানা পুলিশকে অভিযোগটি এফ.আই.আর করার নির্দেশ দিলে পুলিশ মামলার প্রধান আসামী হৃদয়কে গ্রেফতার করে। এতে করে ভিকটিম ন্যায় বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয় এবং সেই সঙ্গে ভিকটিমের পক্ষে বিনা খরচে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ওই আইনজীবী।

শিবালয় থানা অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন বলেন, আদালতের নিদের্শে এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ভিকটিমকে ধর্ষণের বিষয়টি শিকার করেছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।